নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুল পড়ুয়া মেয়ের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বগুড়ায় দাদি-নাতি বউকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া প্রধান অভিযুক্ত মুলহোতা সৈকত হাসান(২০)কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ভোরে শহরের খান্দার এলাকায় পাসপোর্ট অফিসের পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সৈকত হাসান বগুড়া শহরের ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার মো. সোহেল ইসলামের ছেলে। ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। জোড়া হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা ডিবির ইনচার্জ ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘গ্রেপ্তার এড়াতে সৈকত নানা কৌশলে আত্মগোপনে ছিল। তবে পুলিশের চৌকস অভিযানে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত সোয়া ৮টার দিকে বগুড়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন—স্থানীয় মৃত আব্দুল কুদ্দুস বুলুর স্ত্রী লাইলী বেওয়া (৮৩) এবং পারভেজ ইসলামের স্ত্রী হাবিবা ইয়াসমিন (২১)। সম্পর্কে তাঁরা দাদিশাশুড়ি ও নাতি বউ। একই ঘটনায় আহত হন এসএসসি পাস করা বুলবুলের মেয়ে বন্যা (১৬)।
ঘটনার পর আহত বন্যার ফুফাতো ভাই মো. খোকন বলেন,সৈকত দীর্ঘদিন ধরে অস্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া বন্যাকে উত্যক্ত করত এবং বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানালে সৈকত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার রাতে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় সৈকতসহ আরও ৭-৮জন ঘরে প্রবেশ করে। “তখন বন্যার ভাবী হাবিবা তাদের গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা প্রথমে হাবিবাকে গলায় ছুরিকাঘাত করে। এরপর লাইলী বেওয়াকেও গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় বন্যা বাধা দিতে গেলে তাকে পেটে ছুরিকাঘাত করে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। এরপর বন্যার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক লাইলী বেওয়া ও হাবিবাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ঘটনার পরই আমরা আসামি ধরতে অভিযান শুরু করি। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে সৈকতকে আটক করা হয়। এরপর তাকে সাথে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সৈকত প্রাথমিকভাবে জোড়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলা দায়ের করা হলে গ্রেফতারকৃত সৈকতকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সৈকতকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। আহত বন্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply