নিজস্ব প্রতিবেদক
কোপা আমেরিকা ফুটবল কাপে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়। ফুটবল দুনিয়ায় ফুটবলের বরপুত্র কে? কালো মানিক প্লে, না দিয়োগো ম্যারাডনা। এ বিতর্কের আজও অবসান হয়নি। প্রয়াত দিয়োগো ম্যারাডনার দেশ আর্জেন্টিনা। আজ ১৫ জুলাই সোমবার সকাল ৭টায় যুক্তরাস্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে কোপা আমেরিকা ফুটবল কাপ। এ খেলায় ২২ নম্বর জার্সিধারি আর্জেন্টাইন তারকা লাউটার মার্টিনিজের একমাত্র গোলে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আর্জিন্টিনা ফের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা অটুট রেখেছে। সারাদেশে আর্জেন্টিনা সমথর্কদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস বয়ে চলেছে। জয়ের জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছো। কোপা আমেরিকা ফুটবল খেলা উপভোগ করতে ফুটবল প্রেমীরা সারাদেশে ছোট ও বড় পর্দায় চোখ রাখেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬ টায় এ খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্টেডিয়ামে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক ও টিকিট ছাড়াই প্রবেশে হুড়োহুড়ি ঠেকাতে নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। যেকারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা ২০ মিনিট পরে সকাল ৭,২০ মিনিটে এ খেলা শুরু হয়৷ খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোন পক্ষই গোল করতে সমর্থ না হলে অতিরিক্ত আরো ৪ মিনিট সময় দেয়া হয়। তাতেও গোল না হলে খেলা আরো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াই । হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ১১২ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টাইন তারকা ২২ নং জার্সিধারি লাউটার মার্টিনিজ কলম্বিয়ার জালে বল জড়ালে আর্জিন্টিনা ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। ১২২ মিনিটে রিফারি শেষ বাঁশী বাজালে জয় নিশ্চিত হয়ে মাঠে আজেন্টিনা খেলোয়াড়রা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। কোপা আমেরিকা ফুটবল কাপে শিরোপা জয়ে নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা কাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকা কাপে আর্জেন্টিনার এটি ১৬তম শিরোপা বিজয়। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ৬৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় মাঠ ত্যাগ করলে মেসিকে ছাড়াই আর্জেন্টিনা কলম্বিয়ার মোকাবিলা করতে থাকে। ৭৫ মিনিটে আর্জেটিনা কলম্বিয়ার জালে বল জড়ালেও সেটি অফ সাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর মরিয়া হয়ে আর্জেন্টিনা কলম্বিয়ার সাথে লড়তে থাকে। খেলার অতিরিক্ত সময়ের ১০ মিনিট বাকি থাকতে ১১২ মিনিটে আর্জেন্টিনা কলম্বিয়ার জালে বল জড়ায়। জয়ের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। শেষ সময় পর্যন্ত প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া গোলের দেখা না পাওয়ায় আজেন্টিনার জয় সুনিশ্চিত হয়। এদিকে ৩০ বছর পর কোপা আমেরিকা কাপে কলম্বিয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে বল নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার শিরোপা জয়ের আশা পূরুন হলো না। শিরোপা না পাওয়ার হতাশা যেন বারবার মুচড়ে দিচ্ছ কলম্বিয়ানদের। অপরদিকে বাংলাদেশে ফুটবল প্রেমিদের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার একটি বড় অংশ সমর্থক রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হলেই এই দুই দলের সমর্থকদের খেলা নিয়ে দাদানাতি, নানানাতি, চাচা ভাতিজা ,ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে জয় পরাজয় নিয়ে বাজি ধরতে দেখা যায়। শহর থেকে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম পযর্ন্ত দুই দলের সমর্থকদের সুউচ্চ ভবনে ও বাসা বাড়িতে দেশ দুটির পতাকা টানানো হয়। এমনকি অফিস আদালতেও এনিয়ে আলোচনা বেশ জমে উঠে।
১৯৩০ সালের পর বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে আর্জেন্টিনা দল দু’বার শিরোপা জিতেছে। ১৯৭৮ সালে ও ১৯৮৬ সালে। ১৯৬০ সালে জম্ম নেয়া ১৮ বছর বয়সে এই ফুটবল তারকা দিয়োগো ম্যারাডনা ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা দলে নাম লেখালেও ৮৬’ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সিধারি দিয়োগো ম্যারাডনা ফাইনালে জার্মানির প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে নামেন। খেলায় অসাধারন নৈপুণ্য প্রদর্শন করে মধ্য মাঠ থেকে ৮ জন খেলোয়াড়ের পা থেকে বল কেটে নিয়ে গোল করেন দিয়োগো ম্যারাডনা। শিরোপা জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। এই গোলটিই ফিফা’র চোখে সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকে বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি ফুটবল প্রেমিদের হৃদয়ে স্থান করে নেন এই বিশ্ব নন্দিত ফুটবল তারকা দিয়োগো ম্যারাডনা। সেই সময়ে বাংলাদেশ সহ বিশ্বে ফুটবল প্রমিদের মনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে তার প্রতি ভালোবাসার অনন্য নজির হিসেবে শহর থেকে গ্রামের অলিতে গলিতে ম্যারাডনার ছবি,এমনকি পোষাক পরিচ্ছদ ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খাতায় প্রচ্ছদচিত্র হিসেবে স্থান করে নেয় ম্যারাডনার প্রতিকী ছবি। দিয়োগো ম্যারাডনা সারাবিশ্বে হয়ে উঠেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি ফুটবলার । তিনি আজ প্রয়াত হয়েছেন। কিন্ত কোটি কোটি ম্যারাডনার ভক্ত সমর্থকগন তার ভালবাসা আজও মনে প্রাণে লালন করে তাদের প্রিয় আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন করে আসছেন। ১৯৯০ সালে ফের ৩য় বারের মত ট্রফি জিততে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে মুখোমুখি হয় জার্মানির। ৮৬ ‘ বিশ্বকাপের পরাজয়ের গ্লানি মুছতে শিরোপা জিতে প্রতিশোধ নেয় জার্মানি। বিশ্ব ফুটবল গোল্ডকাপ থেকে ছিটকে পড়ে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ৯৪’ ‘সালে বিশ্ব ফুটবল গোল্ডকাপে মাঠে নামেন এই বিশ্ব নন্দিত ফুটবল তারকা দিয়োগো ম্যারাডনা। কিন্তু বিধি বাম। মাদকসেবনের অভিযাগে ফিফা তাঁকে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। পরবর্তিতে উরতেগা, তেভেজদের মত খেলোয়াড়ও আর্জেন্টিনার ঘরে ট্রফি এনে দিতে পারেনি। এরপর থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার বারবার পরাজয়ে কোটি কোটি ফুটবল প্রেমিদের আশাহত হতে হয়েছে। সবর্শেষ আর্জেন্টাইন তারক লিওনেল মেসি হয়ে উঠেন আর্জেন্টিনার কোটি কোটি ভক্তদের শেষ ভরসা। লিওনেল মেসি বরাবর ফিফার কাছ থেকে বর্ষসেরা পুরস্কার পেলেও বিশ্ব ফুটবল ট্রফি আর্জেন্টিনার ঘরে তুলতে ব্যর্থ হন । শেষ বারের মতো বকভরা আশা নিয়ে গত ২০২২ সালের কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ফুটবল গোল্ডকাপ আসরে বারবার পরাজয়ের গ্লানি মুছতে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দল মাঠে চমৎকার নৈপূণ্য দেখালে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের মধ্যেকার ফাইনাল খেলায় গোলের বন্যা বয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পেলান্টি স্যুট আউটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে পরাজিত করে দীর্ঘ ৩৫ বছর অপেক্ষার প্রহরগুনে শিরোপা জিতে নেয় আজের্ন্টিনা। কােটি কোটি ভক্ত দর্শকের মনে জয় জয়াকার। আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রাণ চান্চল্যে ভরে উঠে আর্জেন্টিনার ভক্তদের।
Leave a Reply