বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে রোববার বিকেলে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম পিপিএম। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদৎ আলম ঝুনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্তেজার রহমান মন্টু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিআইডি বগুড়া বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাউছার শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) স্নিগ্ধ আখতার ও আব্দুর রশিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার জন্মবার্ষিকীতে আমরা তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। কাজী নজরুল প্রথম বাঙালি কবি, যিনি ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। নজরুলের ক্ষুরধার লেখনীতে ছিল বাণী ও সুরের অমিয় ঝর্ণাধারা। যা বাঙালি হৃদয়ে বিদ্রোহ জাগিয়েছে আবার শীতল পরশ দিয়েছে। নজরুল ছিলেন অকুতোভয় লেখক যিনি ব্রিটিশ অধীনতা থেকে ভারতকে মুক্ত করার জন্য পূর্ণ স্বাধীনতার উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলেন। নজরুল আজীবন মানবতার জয়গান গেয়েছেন, সমুন্নত করেছেন নারীর অধিকারকে। মহান মানবতাবাদী কবি নজরুলের সংগ্রামশীল জীবন এবং তাঁর অবিনাশী রচনাবলি বাঙালি জাতির জন্য অন্তহীন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, কাজী নজরুল ইসলামের অবিনশ্বর উপস্থিতি সকল কূপন্ডকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
সহকারী শিক্ষক আল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনীর উপরে বক্তব্য রাখেন ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা তাবাসসুম, মানুষ কবিতা আবৃত্তি করেন সহকারী শিক্ষক মাসুকুর রহমান সুরুজ, বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করেন শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম আদৃতা, লিচু চোর কবিতা আবৃত্তি করেন সপ্তর্ষি, দলীয় আবৃত্তি করা হয় কান্ডারী হুঁশিয়ার কবিতা। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা কাজী নজরুল ইসলামের গান পরিবেশন ও নৃত্য প্রদর্শন করেন।
Leave a Reply