বিশেষ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধনীর মাধ্যমে বগুড়া জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল এন্ড কলেজ এর ২৫তম আন্ত-হাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৫ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলী, বগুড়া সেনানিবাসের উচ্চপদ, সামরিক কর্মকর্তাগণ, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, এনডিসি, উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল মোঃ আবু শাহাদত হোসেন, পিএইচডি, এইসি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলার গুরুত্বের বিষয়ে আলোকপাত করেন।
তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে ওঠে। আগামী বছরগুলোতেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশেষ উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের প্রতিযোগিতা আয়োজন করার জন্য প্রতিশ্রæতিবদ্ধ মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ভিত্তিক পারদর্শিতা অর্জনসহ দক্ষ জনশক্তি ও প্রকৃত মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসাথে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নৈতিক গুণাবলী বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অদম্য প্রাণশক্তিতে ভরপুর এই নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশকে সম্ভবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠানটি শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষর্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ইতোমধ্যেই ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার হয়েছে। দিনব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন ৪৯ টি ইভেন্টে মোট ৩৩০ জন শিক্ষার্থী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে আনন্দদায়ক বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষার্ধে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। উক্ত পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে আবহমান বাংলার প্রকৃতির সাথে দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসপটকে উজ্জীবিত ও প্রত্যাশিত করেছে। সুন্দর এ ধরণীতে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন ও বসবাসের এক অকল্পনীয় বিষয়কে তারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত করতে সক্ষম হয়, যা দর্শকদেরকে বিমুগ্ধ করেছে।
Leave a Reply