বগুড়াপোস্ট ডেস্ক
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই এবং সিঙ্গাপুরে তার নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ দেশের কাছ থেকে সরাসরি সাড়া মেলেনি, তবে যুক্তরাজ্যে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, ২০২৪ সালের এপ্রিলে এমএলএআর পাঠানোর পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রায় ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ ফ্রিজ করেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি, তবে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, সম্পদ দেশে ফেরত আনতে আমাদের দাবি প্রমাণ করতে হবে। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য উভয় দেশের আদালতের সম্মতি ছাড়া এই সম্পদ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর একাধিক কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব এবং প্রায় অর্ধশতাধিক অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য পাওয়া গেছে।
আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যেই রয়েছে ৩৬০টি বাড়ি।
বাংলাদেশের আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি এবং অন্যান্য দেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমিসহ স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে। এ ছাড়া, দেশে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব, ১০২ কোটি টাকার শেয়ার এবং ৯৫৭ বিঘা জমিও জব্দ করা হয়েছে।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে বিদেশে সম্পদ গড়েছেন। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়, ভুয়া কোম্পানির নামে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং প্রভাবও এ মামলার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তার বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন ইউসিবির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান নিজেও ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তার স্ত্রী রুকমীলা জামান ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী সম্পদ জব্দের পর এখন আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। তবে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পদ উদ্ধার মামলাগুলোতে সময় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি শক্ত প্রমাণ উপস্থাপনই মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply