ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার ৭টি আসনেই দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। সারাদেশের মধ্যে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় তারেক রহমান সহ ৪ জন নতুন মুখ, নবীন এমপি হয়েছেন। নবনির্বাচিত নবীন এই ৩ এমপি একসময় বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তারা মঙ্গলবার প্রথমবার এমপি হিসেবে সংসদ ভবনে যাবেন।
তারা হলেন- বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আবদুল মহিত তালুকদার এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোরশেদ মিল্টন।
জানা গেছে, বগুড়া-২ শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মীর শাহে আলম ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে আসীন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক মেয়র আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন, ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
মীর শাহে আলম জানান, সংসদে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফার বাস্তবায়নে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ আসনটি ঢেলে সাজিয়ে উন্নয়নের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বগুড়া-৩ আসনটি দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মুহিত তালুকদার ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ আসনে তার বাবা আবদুল মজিদ তালুকদার তিনবার ও বড় ভাই আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আবদুল মোমেন তালুকদার খোকার স্ত্রী মাসুদা মোমেনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদারের কাছে পরাজিত হন। এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল মুহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর নূর মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। আবদুল মুহিত তালুকদার বগুড়া-৩ আসনের আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার কাঙ্ক্ষিত সব উন্নয়ন কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।
আবদুল মুহিত তালুকদার জানান,আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমার বাবা, ভাই সবাই জনগণের সেবা করেছেন। আমিও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যাব। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনগনের সেবার করার সুযোগ কম, এমপির সুযোগ সুবিধা বেশি হবে, তাই এলাকার মানুষের বেশি বেশি সেবা করতে পারবো।
এছাড়া বিএনপির আতুর ঘর হিসেবে চিহ্নত বগুড়া-৭ আসনটি গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান। এখানে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। নেত্রীর মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টনকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়। তিনি ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী পেয়েছেন, ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৪ ভোট।
এমপি হওয়ার আগে মোরশেদ মিল্টন গাবতলী পৌরসভার মেয়র ও পরে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার উপজেলা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায় সেবার বিএনপি প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর বিএনপির সমর্থনে রেজাউল করিম বাবলু নামে এক ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক মার্কা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মোরশেদ মিল্টন জানান, ভোটাররা বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিবারের মর্যাদা রেখেছেন। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের মাধমে শহীদ জিয়া পরিবারের এ আসনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাব।
Leave a Reply