আলমগীর হোসেন
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মুহূর্তেই হৃদয় বিদারক হয়ে গেল। কাল হয়ে দাড়িয়ে গেল রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া হাই ভোল্টেজ ১১ কেভির বিদ্যুতের তার। ওই তারের সাথে লেগে রথযাত্রার গম্বুজে থাকা সকল পুর্ন্যার্থীরা ঝলছে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর উৎসবে বেজে উঠে বেদনার করুন সুর। বলছি রোববার বিকেলে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি ইস্কন মন্দিরের রথযাত্রায় হতাহতের ঘটনা।
বগুড়া জেলার সবচেয়ে বৃহত্তর ও পুরাতন সেউজগাড়ি ইস্কন মন্দি। প্রতি বছরেই ব্যাপক উৎসাহ উদ্বেপনার মধ্যে দিয়ে এ মন্দিরের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর রোববার ৭ জুলাই তার বতিক্রম ছিল না, বরং গত বছর গুলোর চেয়ে আরও বর্নিল আয়োজনে সাজানো হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভক্তরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছেন এই ঐতিহ্য বাহি রথযাত্রা দেখার জন্য। রথযাত্রায় ঢোলের বাদ্যর তালে তালে ব্যাপক আনন্দ করবেন ভক্তরা সেই আশায় অপেক্ষা করছিলেন মন্দির প্রাঙ্গনে। মন্দিরের পুরোহিতের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার বিকেল ৫ টায় ঢাকের তালে ইস্কন মন্দির থেকে বৃহত্তর রথযাত্রাটি ১ শত গজ বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা দিকে রওনা দিতেই কাল হয়ে দাড়ায় রাস্তার উপরের হাই ভোল্টেজের তার। রথযাত্রার গম্বুজের উচ্চতা বেশি রাখায় এবং লোহার পাইপ দিয়ে স্থাপন করার কারণে ওই বিদ্যুতের সাথে লেগে যায়। তখনই রথযাত্রার লোহার গম্বুজের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় গম্বুজের মধ্যে এবং আশেপাশে থাকা ভক্তদের শরীরে বিদ্যুতের আগুনে ঝলছে যায়। এতই প্রায় অর্ধ শতাধিক ভক্ত আহত হয়। তখনই ব্যাপক উৎসাহ উদ্বেপনা এবং আনন্দ মুহূর্তেই বেদনার সুর বাজিয়ে উঠে। সাথে শহরের সরকার বেসরকারি হাসপাতালের এ্যাস্বুলেন্স এসে আহতদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই হাসপাতালে তিন নারীসহ ৫ জনকে মৃত্যু ঘোষনা করে চিকিৎসক। এ ঘটনায় আহত ৪০ জন ওই দুটি হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ৩/৪ জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
পুজা উদযাপন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায় জানান, অব্যবস্থাপনা এবং অসাবধানতার কারণে সেউজগাড়ীতে রথযাত্রায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর রথযাত্রা যাওয়ার সময় ওই তারের নিচে গিয়ে গম্বুজ নিচু করা হয়। কিন্তু এবার গম্বুজ নিচে নামানো হয়নি। সেকারণে রথযাত্রায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুভাশিষ পোদ্দার লিটন জানান, রথযাত্রার গম্বুজটি প্রতি বছর বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে দাঁড় করে রাখা হয়। কিন্তু এবারের রথযাত্রায় গম্বুজ টি লোহার পাইপ দিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে। অতীতের মতো এবারও গম্বুজটি বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে দাঁড় করানো হলে হয় তো এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।
বগুড়া নেসকো-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ জানান, সেউজগাড়িতে রাস্তার ওপর দিয়ে ১১ কেভির বিদ্যুৎ লাইনটি ১৫/২০ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছে। এই লাইনটি সমতল থেকে ১৮ ফিট উপরে তার আছে।ওই রাস্তা দিয়ে সর্বোচ্চ লোড নিয়ে বড় বড় ট্রাক যাতায়াত করে আসছে। কোন যানবাহনেও লাগা তো দুরের কথা ট্রাকে উচু করে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে তাতেও আমাদের বিদ্যুতের তার লাগেনি। আজকের রথযাত্রার গম্বুজ টি এত উচু করে রাখা হয়েছে সেকারণে বিদ্যুতের সাথে লেগেছে। ঘটনা শুনার সাথে ওই লাইনে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছি। লাইন স্থাপনের পর থেকেই ইস্কন মন্দিরের রথযাত্রা ওই তারের নিচ দিয়ে আসছিল প্রতিবছর। কিন্তু রোববার অসাবধানতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবার কে ২৫ হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Leave a Reply