নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মারপিট করে রিকশা চালক দরিদ্র দুই পরিবারকে এলাকা ছাড়া করেছে ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি বায়তুল্লাহ শেখ। তার ভয়ে ও হুমকিতে ৫ মাস ধরে নিজ বাড়িতে ফেরতে পারছে না মোঃ শাহ্ আলম ও মোঃ মাহা আলম পরিবারের সদস্যরা। কিছুদিন আগে নিজ বাড়িতে প্রয়োজনে গেলে মহিলাসহ দুইজন ট্যাটা ( পাচা) দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ দিলেও আমলে নেয়নি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাহা আলম।
লিখিত এক বক্তব্যে মাহা আলম বলেন,
বগুড়া শহরতলীর পালশা হাজীগাড়ীর দুই ভাই আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তি। আমরা পেশায় রিক্সা চালক ও অ্যানগাড়ী চালক। রিক্সা ভ্যানগাড়ী চালাইয়া জীবিকা নির্বাহ করি। গত ৯ জানুয়ারী মোঃ তৌফিক (২০) আমাদের বসত বাড়ীর দরজার সামনে গলি পথে একটি মোটর সাইকেল রাখে। উক্ত মোটর সাইকেল রাখার ফলে আমরা রিক্সা ভ্যান বাড়ী হইতে বাহির করিতে পারি না, ফলে আমরা উক্ত মোঃ তৌফিককে মোটর সাইকেলটি সরাইয়া রাখিতে বলিলে তৌফিক উত্তেজিত হইয়া উঠে এবং আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালা-গালি করিতে থাকে।
আমরা প্রতিবাদ করিলে আমাদেরকে নানারুপ খুন জখমের হুমকি প্রদান করে এবং বিষয়টি তৌফিক মোবাইল ফোনে তাহার আপন চাচা ৪নং ওয়ার্ড বি.এন.পি’র অঙ্গ সংগঠন যুবদল এর সভাপতি মোঃ বায়তুল্লাহ্ শেখ কে জানায়। এরপর উক্ত বায়তুল্লাহ শেখ উত্তেজিত হইয়া উঠে এবং ৪০/৫০টি মোটর সাইকেল যোগে প্রায় ৭০/৮০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির যুবকে সংগে নিয়ে আসিয়া উক্ত তারিখেই আমাদের বাড়ীতে নগ্ন হামলা চালাইয়া বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে এবং আমাদেরকে বসত বাড়ীতে অবরুদ্ধ করিয়া রাখে। ফলে আমরা ৯৯৯-এ ফোন দিয়া পুলিশী সহযোগীতা চাহিলে থানা হইতে পুলিশ গিয়া আমাদেরকে অবরুদ্ধ হইতে উদ্ধার করিলে, আমরা তৎপর হইতে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে বসবাস করিতেছি। উক্ত ঘটনার বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করিলেও, বিবাদী এবং তাহার চাচা বায়তুল্লাহ্ শেখ প্রভাবশালী হওয়ায় অদ্যবধি থানা পুলিশ আমাদের দাখিলী অভিযোগটির কোনরুপ তদন্ত করে নাই কিংবা সত্যতা যাচাই করে নাই। উক্ত ঘটনার পর আমরা দুই ভাই একাধিকবার নিজ বাড়ীতে গেলে বিবাদী তৌফিক সহ তাহার পরিবারের লোকজন আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের মারপিট করিয়া নিজ বাড়ীতে ঢুকিতে দেয় না। উক্ত তৌফিক সহ তাহার পরিবারের লোকজন এবং তাহার ঢাকা যুবদল নেতা মোঃ বায়তুল্লাহ্ শেখ এর ভয়ে নিজ বসত ভিটা ছাড়িয়া অদ্যবধি আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে বসবাস করিতেছি। উল্লেখিত অবস্থায় আমি মাহা আলম ও আমার স্ত্রী মোছাঃ কবিতা বেগম গত ১১ মে বিকেলে নিজ বাড়ীতে গেলে বিবাদী তৌফিক সহ তাহার চাচা বায়তুল্লাহ্ শেখ এর লোকজন আমাকে ধারালো চাকু দ্বারা পেটে আঘাত করিলে আমি উক্ত আঘাত ডান হাত দ্বারা ঠেকাইলে ডান হাতের তালুতে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হই। আমাকে আমার স্ত্রী কবিতা বেগম রক্ষার জন্য আগাইয়া আসিলে তাহাকেও মাছ শিকারের পাঁচা (ক্যাটা) দ্বারা উপর্যুপরি আঘাত করিয়া গুরুত্বর জখম করে। আমি এবং আমার স্ত্রী চিকিৎসা গ্রহনের পর কিছুটা সুস্থ্য হইয়া উক্ত ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করিয়াছি। আমরা বিবাদী-তৌফিক সহ তাহার পরিবারের লোকজন এবং তাহার চাচা যুবদল নেতা মোঃ বায়তুল্লাহ্ শেখ এর সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা চরম জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হইয়া দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ বসত ভিটা ছাড়া হইয়াছি।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের লিখনীর মাধ্যমে অত্র এলাকার জনগন সহ দেশের আপামর জনতার জ্ঞাতার্থে আইন শৃংখলা বাহিনী, যৌথ বাহিনী, র্যাব বাহিনী এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় আমরা আমাদের নিজ বসত ভিটায় উঠিয়া শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করিতে চাই এবং তৌফিক সহ তাহার চাচা যুবদল নেতা বায়তুল্লাহ্ শেখ এর সন্ত্রাসী বাহিনীর কবল হইতে আমরা এবং আমাদের পরিবারের সদস্যদের জান-মালের নিরাপত্তা ও আর্থিকভাবে ক্ষতির আশংকা হইতে রক্ষার জন্য সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি। এসময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
যুবদলের ওয়ার্ড সভাপতি বায়তুল্লাহ শেখ জানান, মোটর সাইকেল রাখা নিয়ে আমার ভাইয়ের পরিবারের সাথে তাদের ঝগড়া হয়েছিল। তারা আমার ভাতিজা, ভাই ভাবিকে মারপিট করেছে।সে বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তখন মাহা আলমরা কেউ ছিল না। উক্ত দুই পরিবার মিথ্যাচার করছে।
Leave a Reply