নিজস্ব প্রতিবেদক
সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৯ তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বগুড়া আদিবাসী গবেষণা পর্ষদ আয়োজনে শনিবার বেলা ১১ টায় সাতমাথা মুজিব মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫-৫৬) ১৬৯ তম বার্ষিকীতে আধিবাসী গবেষণা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসী গবেষণা পর্ষদের চেয়ারম্যান বক্তব্য বলেন, ১৮৫৫-৫৬ সালে ভারতের বর্তমান ঝাড়খন্ড ৩০ জুন মহান সাঁওতান বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। সেদিনের সাঁওতাল বিদ্রাহের মূল দবী ছিল নিজ রাজার অধীনে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব সাঁওতালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা। ভারতবর্ষ ইংরেজদের করায়াত্ব হলে, তাদের শাসন শোষন প্রতিতনে পাকাপোক্ত করতে অন্যায় কর আরোপ, ধর্ষণ, হত্যার মত নির্মমতা চালাতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে সাঁওতালদের অর্থনৈতিক জীবন ধ্বংস হয়ে পড়ে। তার সাথে যুক্ত হয় সামন্ত জমিদার সুদখোর মহাজন পুশি, পাইক পেয়াদা। জমির খাজনা মিটাতে সাওতালী জাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তারা তৎকালীন ইংরেজ, জমিদার আইন প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়ে কোনরূপ প্রতিকার না পেয়ে, বিদ্রোহের পথ বেঁছে নেই। ঘোষণা করে হুল। ছল সাঁওতালী শব্দ যার অর্থ বিদ্রোহ।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে বেসবাসকরি আদিবাসীদের ভূমি ভাষা, নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ, বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ ধর্ষণ সহ, হত্যান্ড অব্যাহত আছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আলফ্রেড সরেন, মিঠুন উরীও মঙ্গল মার্ডি রামেস টুডু সহ প্রায় ৩০০ জন আদিবাসী জনগণকে হত্যা করা হয়। বৃটিশ শাষিত সময় কাল থেকে ক্রমাগত শোষনের ফলে তাদের অর্থনৈতিক জীবন ধ্বংস হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধা গেবিন্দগঞ্জের বাগদাফার্মে ১৮৪২.৩০ একর ভূমি বেদখল হয়ে আছে, সমগ্র বাংলাদেশ শুধুমাত্র সাঁওতালদের ৩.৫০,০০০ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) একর। পাহাড় সমতলে। আদিবাসীদের পাহাড় অরন্যের অধিকার হনন কার হচ্ছে। তাদের বাপ-দাদাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সুতরাং এরুপ বাস্তবতায় ১৮৫৫-৫৬ সালের মতই আরো একটি সাঁওতাল বিদ্রোহ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
গোলাম সারোয়ার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ মো: মোশাররফ হোসেন মুসা, রাকসুর আন্দোলন মঞ্চ আহবায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের ভূমি আন্দোলনে নেতা গনেশ মার্ডি, বাংলাদেশ হারিজন ঐক্য পরিষদের বগুড়া জেলা সভাপতি দীপক হরিজন, সুধীর হরিজন, জাতীয় আদিবাসী সভাপতি বাবুল রবিদাস, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দীয় নেতা আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতবৃন্দ।
সভায় বক্তাগণ সাঁওতাল বিদ্রোহের মহান নেতা সিধু কানু, চাঁদ-ভৈরব ফুলমণ্ডি সহ সাঁওতাল বিদ্রোহী শাহীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তাদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি আদর্শের পথে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানান।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply