1. admin@bogurapost.com : admin :
ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল - BoguraPost
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বগুড়ায় ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ বগুড়ায় রাস্তায় বাইক রাখায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা এমপি গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় জেলা জজের পুনঃপদায়ন বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও আদালত বর্জন বগুড়ায় ‘নতুন কুঁড়ি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ৭ম ম্যাচ অনুষ্ঠিত গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও আওয়ামী লীগ পালানোর মতো জায়গা পেলেও বিএনপি পালানোর জায়গাও পাবে না, বগুড়ায় নাযেবে আমীর  বগুড়ায় ৫৩ তম জাতীয় ক্রীড়া সমিতির ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ বগুড়ায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ঠনঠনিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ১২ নভেম্বর থেকে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮৯ বার

বগুড়াপোস্ট ডেস্ক

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা। নিজের সঙ্গে মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং তা অবশ্যই নিয়মভিত্তিক হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক চর্চার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। অন্যথায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একভাবে চিন্তা করে অন্যভাবে কাজ করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশে কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকেনি। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন, পরে খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন সময়ে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারকে ব্যর্থ আখ্যা দেয়া বা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংসদে আলোচনা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিত। রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি বা ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।’

সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা। নিজের সঙ্গে মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক সংবাদকর্মী নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের পথে হাঁটেন। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সত্য প্রকাশের সাহস দেখাতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। একটি ছোট ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি কঠিন রূপান্তরকালীন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে। দীর্ঘদিনের নানা অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সময় প্রয়োজন।’

বক্তব্যের শেষাংশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল এবং সমাজের সব অংশকে আরও ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে হবে। শক্তিশালী গণমাধ্যম এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধৈর্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

 

দয়া করে শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024 by Bogurapost
Theme Customized By BreakingNews