বগুড়ার সেউজগাড়িতে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের ইস্কন মন্দিরের রথযাত্রায় রাস্তার উপর দিয়ে প্রবাহিত বৈদ্যুতিক তারের সাথে সংস্পর্শে হতাহতের কারণ ছিল গম্বুজটি উচ্চতা বেশি ছিল। আর তারের আগে গিয়ে গম্বুজটি নিচের দিকে নামানোর কথা থাকলেও না নামানো হয়নি বলে দুঘটনাটি ঘটেছে। সমতল থেকে ১৮ ফুট উচ্চতায় ছিল বৈদ্যুতিক তার আর রথযাত্রার গম্বুজ টি ছিল ২৫ ফুট উচ্চতার। সেকারণেই বৈদ্যুতিক তারের সাথে রথযাত্রার গম্বুজটি সংস্পর্শে আসলেই আগুন ধরে যায়। আর এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বছরে দুই দফা রথযাত্রা ও উল্টোরথযাত্রা বের হয়। শহরের রাস্তার ওপরে থাকা বৈদ্যুতিক তারের অবস্থান অনুযায়ী ঠিক কত ফুট উচ্চতায় রথ ওঠানো যাবে, তা আয়োজকদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই সতর্কতা সত্ত্বেও ২৫ ফুট উচ্চতায় রথের চূড়া উঠানো হয়।
তিনি আরো বলেন, এটি আয়োজকদের ভুলে নিছক দুর্ঘটনা। তবুও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ও পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পি এম ইমরুল কায়েস। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ইসকন বগুড়া শাখার অধ্যক্ষ খরাজিতা কৃষ্ণদাস বলেন, দুঘটনার আগে রথযাত্রায় প্রচুর ভিড় ছিল। বৈদ্যুতিক তারের চেয়ে রথযাত্রার গম্বুজটি বেশি উচু ছিল। তারের আগে গম্বুজ টি নিচে নামানোর কথা ছিল। যারা গম্বুজ টি নিচের নামানোর দায়িত্বে ছিলেন তারা রথযাত্রার আনন্দে বিমোহিত ছিল।আনন্দে তারা গম্বুজ টি নিচে নামানোর কথা ভুলে গিয়েছিল। আর সেকারণেই বৈদ্যুতিক তারের সাথে রথযাত্রা গম্বুজটি লেগে ফায়ারিং হয়ে অধ শতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে তিন নারীসহ ৫ জন নিহত হয়েছে।
পুজা উদযাপন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায় জানান, অব্যবস্থাপনা এবং অসাবধানতার কারণে সেউজগাড়ীতে রথযাত্রায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর রথযাত্রা যাওয়ার সময় ওই তারের নিচে গিয়ে গম্বুজটি নিচে নামানো হয়। কিন্তু এবার গম্বুজ নিচে নামানো হয়নি। সেকারণে রথযাত্রায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুভাশিষ পোদ্দার লিটন জানান, রথযাত্রার গম্বুজটি প্রতি বছর বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে দাঁড় করে রাখা হয়। কিন্তু এবারের রথযাত্রায় গম্বুজ টি লোহার পাইপ দিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে। অতীতের মতো এবারও গম্বুজটি বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে দাঁড় করানো হলে হয় তো এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।
বগুড়া নেসকো-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ জানান, সেউজগাড়িতে রাস্তার ওপর দিয়ে ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনটি ১৫/২০ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছে। এই লাইনের বৈদ্যুতিক তার সমতল থেকে ১৮ ফুট উচ্চতায় আছে। ওই রাস্তা দিয়ে সর্বোচ্চ লোড নিয়ে বড় বড় ট্রাক যাতায়াত করে আসছে। কোন যানবাহনেও লাগা তো দুরের কথা ট্রাকে উচু করে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে তাতেও আমাদের বিদ্যুতের তার লাগেনি। আজকের রথযাত্রার গম্বুজ টি এত উচু করে রাখা হয়েছে সেকারণে বিদ্যুতের সাথে লেগেছে। ঘটনা শুনার সাথে ওই লাইনে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছি। লাইন স্থাপনের পর থেকেই ইস্কন মন্দিরের রথযাত্রা ওই তারের নিচ দিয়ে আসছিল প্রতিবছর। তারের উচ্চতার চেয়ে রথযাত্রার গম্বুজটি উচ্চতা বেশি হওয়ার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার দুপুরে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, রথযাত্রার গম্বুজটির উচ্চতা বৈদ্যুতিক তারের উচ্চতার চেয়ে বেশি ছিল। সেকারণেই গম্বুজটি বৈদ্যুতিক তারের সাথে লাগার সাথে সাথে ফায়ারিং হয়ে আগুন লেগে যায়। আর এতে অর্ধ শতাধিক পুন্যাথীরা হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবার কে ২৫ হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Leave a Reply