1. admin@bogurapost.com : admin :
বগুড়া শিবগঞ্জে ভাতার কার্ড দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মহিলা মেম্বার শান্তনার বিরুদ্ধে - BoguraPost
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বগুড়ায় ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ বগুড়ায় রাস্তায় বাইক রাখায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা এমপি গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় জেলা জজের পুনঃপদায়ন বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও আদালত বর্জন বগুড়ায় ‘নতুন কুঁড়ি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ৭ম ম্যাচ অনুষ্ঠিত গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও আওয়ামী লীগ পালানোর মতো জায়গা পেলেও বিএনপি পালানোর জায়গাও পাবে না, বগুড়ায় নাযেবে আমীর  বগুড়ায় ৫৩ তম জাতীয় ক্রীড়া সমিতির ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ বগুড়ায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ঠনঠনিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ১২ নভেম্বর থেকে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

বগুড়া শিবগঞ্জে ভাতার কার্ড দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মহিলা মেম্বার শান্তনার বিরুদ্ধে

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৩৬ বার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ার শিবগঞ্জে ভাতা কার্ড দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে শান্তনা আক্তার সেতু নামে এক মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। শান্তনা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য।

জানা গেছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এলাকায় তিনি ভাতাভোগী নির্বাচনে করেছেন নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দেয়ার নামে অসহায় দরিদ্রদের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মহিলা মেম্বার শান্তনা। যেসকল উপকারভোগীকে ভাতা কার্ড দিয়েছেন, বিনিময়ে তাঁদের থেকে নিয়েছেন হাজার হাজার টাকা। আবার অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও তাঁদেরকে দেয়া হয়নি কোনো ভাতা কার্ড। এলাকার বিভিন্ন গ্রামের অসহায় মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্নসাত করেছেন তিনি। এমনকি ভাতা কার্ডের জন্য টাকা দিতে গিয়ে শান্তনার বাড়ি থেকে একটা অটোভ্যানও হারিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

দেউলী ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের ভুক্তভোগী মেহেদুলের এক ভাতিজা জানান, আমার চাচা প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য বিভিন্ন লোকজনের কাছে ঘুরাঘুরি করতো। একদিন শান্তনা মেম্বার আমার চাচাকে বলতিছে, “তুমি তো প্রতিবন্ধী মানুষ! যদি প্রতিবন্ধী ভাতা নিতে চাও তাহলে ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে আমার কাছে আসো”। পরে আমার চাচা ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে একটা অটোভ্যান নিয়ে তার বাড়িতে যায় টাকা দেওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে বাড়ির বাইরে অটোভ্যান রেখে বাড়ির ভেতর গিয়ে শান্তনাকে টাকা দিয়ে বাইরে এসে দেখেন ভ্যানটি আর নাই। এভাবে তিনি তার একমাত্র উপার্জনের সম্বল অটোভ্যানটিও হারান। তারপরও চাচার প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেয়নি। কার্ডের কথা বললে তিনি (শান্তনা) বলেন, কার্ড হইছে। কার্ডের টাকা অন্য জায়গায় যায়। শেষ পর্যন্ত না পেলেন কার্ড, না পেলেন অটোভ্যান। এভাবে শান্তনা মেম্বার এই এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্নসাত করেছেন।

বোয়ালমারী গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম জানান, দুই আড়াই বছর আগে আমার স্বামীর বয়স্ক ভাতার জন্য শান্তনাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখনো ভাতা কার্ড করে দেননি। কার্ডের কথা বললে শান্তনা মেম্বার বলেন, কার্ড হবে, হইছে বলে বিভিন্ন কথায় কাটিয়ে দেন।

ঐ একই গ্রামের রশিদা বেগম জানান, দেড় বছর আগে শান্তনা মেম্বার আমার মেয়ে বেলেজা খাতুনকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কার্ড করে দেননি। কার্ডের কথা বললে তিনি বলেন যে, আপনাদের কার্ড হইছে। অনলাইন করছি, অনলাইন চেক করেন। পরে আমি অনলাইন চেক করেও দেখি আমার মেয়ের নামে কোনো মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড হয়নি। ১০ থেকে ১২ দিন ঘুরাঘুরির পরেও কার্ড না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে আর যাইনি তার কাছে।

ভুক্তভোগী চন্দ্রভান বেওয়া জানান, দুই বছর আগে আমার বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন শান্তনা। অনেক কষ্ট করে একটা খাসি বাচ্চা লালন-পালন  করেছিলাম। সেই খাসি বিক্রি সহ ধারদেনা করে ১০ হাজার টাকা মিল করে দিয়েছি। একটা পয়সাও কম নেয়নি। তারপরেও আমাক বিধবা ভাতার কার্ড করে দেননি। এখন কার্ডের কথা বললে “হবে হবে” বলে শুধু ঘুরায়।

লতিফা বেওয়া(৭৫) নামে এক বৃদ্ধা ভুক্তভোগী জানান, আমি একজন অসহায় মানুষ। বহু বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। ঠিকমতো সংসার চলেনা আমার। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। একটা ভাতা কার্ড থাকলে অনেক উপকার হতো। তাই একটা ভাতা কার্ডের জন্য শান্তনার কাছে গিয়েছিলাম। কার্ডের জন্য তিনি ১০ হাজার টাকার দাবি করেন। পরে এই অভাবী সংসার থেকে অনেক কষ্ট করে শান্তনাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত কার্ড করে দেননি, টাকাও ফেরত দেননি। কার্ডের কথা বললে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হইছে। দেশে ঝামেলা হচ্ছে। বিভিন্ন তালবাহানা দেখিয়ে শুধু ঘুরায়। বয়সের ভাড়ে আমি ঠিক মতো হাঁটতে পারিনা। গাড়িতে করে অনেকবার তার বাড়িত গিয়ে ঘুরে ঘুরে আসছি। নিজের শরীর নিয়ে আমি ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারিনা। তার কাছে গিয়ে আর কতবার হয়রানির শিকার হবো? অতিষ্ঠ হয়ে আর যাইনা। এখন আমি কি করবো?

বোয়ালমারী গ্রামের মৃত দবীরের স্ত্রী জানান, আমি বিধবা কার্ড করে নেয়ার জন্য শান্তনাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। দুই আড়াই বছর হয়ে গেলো এখনো কার্ড করে দেয়ার কোনো কথা নাই। যখনি কার্ডের বিষয়ে বলি তখনি বলে যে এই মাসেই হবে। দুই বছর যাবৎ এভাবেই ঘুরাচ্ছে। কার্ডও করে দেয়না, টাকাও ফেরত দেয়না।

ভুক্তভোগীদের ভাতা কার্ড না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শান্তনা জানান, এব্যাপারে ভুক্তভোগীদের সাথে আমার কথা হইছে বলে মুঠোফোন কেটে দেন। তারপর আর কল রিসিভ করেননি।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, ভাতা কার্ডের জন্য কোনো টাকা লাগেনা। টাকা দিয়ে ভাতা কার্ড করে দেয়ার ক্ষমতা মহিলা মেম্বারের নাই। মানুষেরা টাকা দিলো কেন? কেউ যেন কার্ডের জন্য কাউকে টাকা না দেয়। টাকা দিয়ে কাজ হয়না। আর এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024 by Bogurapost
Theme Customized By BreakingNews