সাদিকুল ইসলাম জিহাদ
ভারত থেকে পশু আসার খবরে এবং তুলনায় কোরবানিযোগ্য সংখ্যায় বেশি থাকার সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বগুড়ার খামারী মালিকরা। বগুড়ায় গত বছরের তুলনায় খামারী ও কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে জেলায় চাহিদা মিটিয়েও অন্য জেলার চাহিদাতে যুক্ত হতে পারে এসব পশু। আবার পশু বিক্রি না হলে বেশি দিন পালা যাবে, তখন কম দামে কসাইদের নিকট বিক্রি করতে হতে পারে। তখন পশু পালনে খরচে টাকা তোলা সম্ভব হবে না।
ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ, জয়পুরহাট জেলার সাথে বগুড়া। ভারতীয় বার্ডার থেকে বগুড়ার দুরত্ব স্বল্প। ভারতীয় কোন পন্য সীমান্তবর্তী জেলায় প্রবেশ করলে খুব সহজেই বগুড়ায় চলে আসে। তাই সীমান্ত দিয়ে ভারতের গরু আসছে। তাহলে এসব ভারতীয় গরু বগুড়ার হাট বাজারে আসবে। ভারতীয় গরু বাজারে আসলে দেশীয় গরুর দাম কমে যাবে। এমন খবরে বগুড়ার গরু পালনকারী কৃষক ও খামারী মালিকরা পশু বিক্রি এবং খরচের টাকা তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানা গেছে, গত বছর বগুড়ায় ৪৪ হাজার ৩২৯জন খামারী ছিলেন। এ বছর সেটি বেড়ে ৪৮ হাজার ৪৫৩জনে দাঁড়িয়েছে। এদের ৯৫ শতাংশই প্রান্তিক পর্যায়ের। জেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৫টি। যা গত বছরের তুলনায় ৮ হাজার বেশি। কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে গরু ২ লাখ ৭০ হাজার ৪১ টি, ছাগল ৪ লাখ ২২ হাজার ৬৫৭টি, ভেড়া ও গারল ৩৯ হাজার ৮৫১টি এবং মহিষ ২ হাজার ২৬৬টি। এসব পশু এবার বগুড়া জেলায় চাহিদা পূরণ করেও ২৯ হাজার ১৫৫টি উদ্বৃত্ত থাকবে।
সদর উপজেলা বারোপুর এলাকার জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬ টি গরু পালন করেছি। কোরবানি কে লক্ষ্য করে বড় করেছি। বর্তমান গো খাবারের যে উচ্চ দাম। তাতে ভালো দামে পশু বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতি গ্রস্থ হতে হবে।
সদর উপজেলা এরুলিয়া বানদিঘী এলাকার ক্ষুদ্র খামারী সাজু মিয়া জানান, ভারত থেকে পশু আসছে। এসব পশু হাট বাজারে আসলে পশু দাম কমে যাবে। তখন আমরা পশুর দাম পাব না। আবার কোরবানির আগে বিক্রি করতে না পারলে সেই পশুকে বেশি দিন পালা যাবে। তখন কম দামে কসাইদের নিকট বিক্রি করতে হবে। তখন ক্ষতি গ্রস্থ হতে হবে।
একই এলাকার ছাগল খামারী রাজা মিয়া জানান, বগুড়া জেলা কোরবানি যোগ্য পশু প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি আছে। তাহলে অতিরিক্ত পশুগুলো তো কোরবানিতে বিক্রি হবে না। তখন এসব পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হবে।
বগুড়া জেলার কাহালু মুরইল এলাকার খামারী আজিজার রহমান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও গরু পালন করেছি। সবগুলো কোরবানি যোগ্য। বাজারে নিয়ে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে ৫ টি গরু বিক্রি করেছি দাম খুব ভালো পায়নি। শোনা যাচ্ছে ভারত থেকে পশু আসছে, এ সংবাদে বাজারে গরুর দাম ভালো মনে হচ্ছে না। সকল গোখাদ্যর দাম বেশি। তাই বেশি দামে পশু বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতি গ্রস্থ হতে হবে।
শহরের ফুলবাড়ি এলাকার কুলসুম বেগম ক্ষুদ্র খামারী জানান,’প্রতি বছর আমি ঈদ উপলক্ষ্যে গরু পালন করে থাকি। গত বছর ভালই দাম পেয়েছিলাম। এবারও যদি ভারত থেকে পশু না আসে তাহলে ভালো দাম পাব।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান জানান, বগুড়ায় এ বছর খামারীর সাথে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে। জেলায় এবার সবার চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৩০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এছাড়া আমরা খামারীদের এই গরমে পশুদের হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে সব ধরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে । এর পাশাপাশি গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের দানাদার খাবারের ওপর চাপ কমিয়ে ঘাস উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করছি।
তিনি আরও জানান, ভারত থেকে পশু আসছে এমন খবর জানা নেই। খামারিদের হতাশা হওয়ার কোন কারনে নেই। এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত কোরবানি যোগ্য পশু ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে চলে যাবে।
Leave a Reply