আলমগীর হোসেন
বগুড়ায় নানা স্মরণীয় বানী ও আন্দোলনে চিত্র আল্পনা ছোঁয়ায় রঙিন করছে শেওয়ালা পরা দেয়ালগুলো। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত শহরের সাতমাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় শেওয়ালা পরা ও বিভিন্ন ছেড়া পোস্টারে এবং অসুন্দর বিভিন্ন দেয়ালে শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তুলতে দেখা যায়। এতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং শহরকে সবুজায়ন করতে রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণের কাজ করছে ছেলে মেয়ে শিক্ষার্থীগণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায়, জিলা স্কুল, ভিএম স্কুল, বগুড়া সরকারি কলেজের দেয়ালে শিক্ষার্থীরা রংতুলির মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এসব দৃশ্যে আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ, মুগ্ধ অন্য শহীদদের ছবি আঁকানো হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশকে নতুন করে সাজানোর স্লোগানও লেখা হয়েছে দেয়ালে।
শহরের সাতমাথায় আল্পনা ছোঁয়ায় রঙিন করা কাজে অংশগ্রহণ কারী বগুড়া ইয়াকুবিয়া স্কুলে অস্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী খাদিজা জানান, আমরা শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে, নতুন বাংলাদেশ দেশ পেয়েছি। সেজন্য এই আন্দোলনে যাদেরকে হারিয়েছি তাদের ছবি দেয়ালে একেছি। এছাড়া আমরা আনন্দে নতুন ও পুরাতন বিভিন্ন শ্লোগান দেয়ালে লেখেছি। যাতে করে এসব মানুষ দেখে ইতিহাস মনে রাখে।
চিত্র অংকন কাজে অংশ নেয়া ঢাকা ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম জানান, দেয়ালে দেয়ালে যে ভাষা ফুটে উঠেছে তা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। যে ভাই ও বোনেরা রক্ত দিয়েছে তাদের স্মরণ করে রাখতে আমাদের এই কর্মসূচী। পাশাপাশি সুন্দর, সাম্য,বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রাথমিক ধাপও আমাদের এই কর্মসূচির অংশ। এছাড়াও আমাদের শ্লোগান আমাদের মাতৃভূমি আর যেন না হয় বারবার রক্তাক্ত।
একাদশ পাশকৃত এক শিক্ষার্থী জিনিয়ারা ইয়াসমিন জিসা জানান, আমরা যে আন্দোলন করেছে নতুন স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তা সুন্দর ভাবে গড়তে আমাদের শ্লোগান ও বাণীগুলো দেয়ালে দেয়ালে চিত্রায়িত করেছি। যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মনে রাখবে।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী সৈকত জানান, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ শুরু করেছে। তারই অংশ বিশেষ আজ ছাত্রসমাজ এখন দায়িত্ব নিতে শিখে গেছে, তারা রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দায়িত্ব পালন করছে এবং পুরানা ময়লা দেয়ালে দেয়ালে বাণী ও আন্দোলন চিত্র আল্পনার ছোয়ায় রঙিন করে তুলছে। আশা করি এই তরুণদের হাত ধরে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে জনতার প্রত্যাশিত রাষ্ট্র।
চিত্র অংকনে অংশগ্রহণকারী আরেক শিক্ষার্থী মৌলি জানান, সম্প্রতিতে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। তার কিছু খন্ড চিত্র দেয়ালে অংকন করা হয়েছে। যা দেখে আগামী প্রজন্ম আমাদের কথা মনে করে। তাহলে কোন দিনও আর পথ হারাবে না বাংলাদেশ।
দেয়াল লিখন কর্মসূচির পাশাপাশি একদল শিক্ষার্থী শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দিয়েছে স্কাউট৷ বিএনসিসির সদস্যরাও। এর আগে, শিক্ষার্থীরা শহর পরিস্কার করেন এবং বিভিন্ন সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষক রেজাদুল হক রেজা জানান, শহরের অধিকাংশ দেয়াল অপরিস্কার ও নোংরা হয়েছিল। সেগুলো পরিস্কার করে নতুন করে রং দিয়ে শিক্ষার্থীদের চমৎকার চমৎকার বানী ও আন্দোলনের খন্ড চিত্র চিত্রায়িত করেছে। এতে পুরাতন দেয়াল নতুনের মতো হয়েছে এবং শহরের সুন্দৌর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
Leave a Reply