1. admin@bogurapost.com : admin :
বগুড়া শহরের সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ - BoguraPost
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়ায় ৪০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় শ্রমিকদলের বহিস্কৃত নেতা লিটন শেখ বাঘার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ দিনমজুর নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি বগুড়া কানছগাড়ি বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম সম্পাদক রকি নির্বাচিত চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম ১৪১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল অনুমোদন: বগুড়া জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী বগুড়ায় ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষ মেলা শুরু

বগুড়া শহরের সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
  • ২৮২ বার
নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতায় জন দুর্ভোগ। এ জলাবদ্ধতায় শহরের অভিজাত সড়কগুলোতে দুপুর পর্যন্ত পানি দেখা দেখা গেছে। এসময় এসব সড়ক দিয়ে যান ও মানুষের চলাচল করতে ভুগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এ বৃষ্টিতে পৌর এলাকার ড্রেনেস ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অনেক বাসা বাড়িতে পানি ঢুকেছে।  পৌর সভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সুধীজন । বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ আলম।

বগুড়ায় বুধবার ভোর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এই বৃষ্টিতে  শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাকেন্দ্রিক এবং অনেক পাড়ার সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয় । শহরের সাতমাথা থেকে কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, শেরপুর সড়ক, স্টেশন সড়ক, পার্ক রোড, বাদুড়তলা, প্রেসপট্টি, বড়গোলা, শেরপুর সড়কের কলোনী বাজার এলাকায়, খান্দার সড়ক, গালাপট্রি সড়ক, টেম্পল সড়ক ছাড়াও কাঠালতলা ফতেহ আলী বাজার সড়ক, নওয়াববাড়ি সড়ক, কাটনারপাড়া সড়কে ছিল হাঁটুপানি। এসব সড়কের দুই পাশের নালার ময়লা-আবর্জনায় ভরা নোংরা পানি উপচে পড়ে সড়কে। সড়ক ছাপিয়ে সেই পানির ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শহরের এমন বেহাল দশা। বৃষ্টি পানি ড্রেন দিয়ে সঠিকভাবে প্রচাহিত হয় না। তাছাড়া বৃষ্টির সময় পথচারীসহ যানবাহন চলাচলে কষ্ট হয়ে পড়ে। ভারী বর্ষণের সময় শহরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়তে হয় বিভিন্ন যানবাহনের চালক, শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের।

শহরের দক্ষিণ কাটনারপাড়ার মুক্তার হোসেন জানান, বাসায় পানি প্রবেশ করে রুমে ঢুকেছে। ছেলে মেয়েদের বই,কাপড়সহ বেশ কিছু ভিজে গেছে।
হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম জানান, ষ্টেশন রোডে পানি জমে যাওয়ার কারণে হকার্স মার্কেটে পানি নামতে না পারায় বেশ কয়েকটি দোকানে পানি ঢুকে পন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে ওই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রিক্সা চালক শহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরেও শহরের টিনপট্টিতে একহাটু পানি। ওই পানির মধ্যে রিকশা নিয়ে আসায় মোটরের পানি প্রবেশ করেছে। এতে মোটরের সমস্যা হবে।
শহরের প্রেসপট্টির এলাকার মো. হারুন জানান, বুধবার সকালের বৃষ্টির পানি ছাপাখানার ভিতরে চলে এসেছিল। এ জন্য রাতে ছাপার কাজ সকালে বন্ধ করে দিতে হয়। দুপুর থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে।
বড়গোলার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, পৌর সভার অনেক ড্রেন অপরিস্কারে ভরে গেছে। সেকারণে ড্রেন দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয় না। আবার যে ড্রেন আছে তা আকারে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট। সেকারণে বৃষ্টির পানি হলে দ্রুত নিস্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ আলম জানান, বগুড়ায় বুধবার  সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টায় ৮০মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। গত বছর ১২ মে জেলায় সর্বোচ্চ ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বৃষ্টির কারণে বগুড়ায় তাপমাত্রা কমেছে। ফলে ভ্যাপসা গরম দূর হয়েছে। আজ জেলায়  সর্বনিম্ন  ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।এই মাসের বাকি দিনগুলোতে বগুড়ায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলো মাঝারি ধরনের বৃষ্টি। মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বলতে বোঝায় ২৩ থেকে ৪২ মিলিমিটার। ভারী বৃষ্টি হলো ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার। আর বৃষ্টি যদি ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হয়, তবে তা অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে গণ্য হয়।

বগুড়া পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা জানান, পৌর এলাকার অনেক ড্রেনে সমস্যা আছে এবং যেসব ড্রেনেস ব্যবস্থা আছে তা পরিকল্পিত না হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। পৌরসভার ড্রেনগুলো প্রস্থ করা জরুরি। কিন্তু বাজেট সীমিত পাওয়ার কারণে কাজ করা সম্ভব হয় না। যেসব ড্রেন আছে তার অর্ধেক ভাঙা, সেগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে মেরামত ও পরিস্কার করছি ।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024 by Bogurapost
Theme Customized By BreakingNews