আলমগীর হোসেন
এসএসসিতে দেশসেরা নম্বর প্রাপ্ত বগুড়ার মোঃ শামসাদ মালিক সাম্য আদর্শ ও মানবিক ডাক্তার, নাফি বিন হাসান স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। পরীক্ষায় মোট ১৩০০ নম্বরের মধ্যে ১২৮৩ নম্বর পেয়েছে সাম্য। সে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে কতৃকার্য হয়েছে। সাম্যর রোল ১৬৭০৪৬। আরেক নাফি বিন হাসান বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ১২৮২ নম্বর পেয়েছে । তারা দুজনই রাজশাহী মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের এই ফলাফল শুধু রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের মধ্য না সারাদেশে সেবা হিসাবে টক ঁঅব দ্যা কান্ট্রি। ভালো ফলাফলের দিক থেকে রাজশাহী বোর্ডের মধ্যে বগুড়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার বগুড়া। নানা ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরা বগুড়া। এক সময়ে শিল্পনগরী ধীরে ধীরে আবারও মাথা উচু করে দাড়াচ্ছে। এখন শিল্পনগরীর পাশাপাশি বগুড়াকে বলা হচ্ছে শিক্ষানগরী। তার জ্বলন্ত উদাহরণ এসএসসি পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে সবোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত সাম্য এবং নাফি। শুধু সাম্য, নাফিই না বগুড়ার শিক্ষাক্ষেত্রে উজ্জ্বল সাফল্য নিয়ে এসেছে আরও অনেকেই। যদিও এখানে ভালো মানের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। বগুড়াবাসীর প্রাণের দাবি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। সেই দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিলও তা ফাইলবন্দি। দীর্ঘদিনও আলোর মুখ দেখছে না সেই বিশ্ববিদ্যালয়। তারপরও বগুড়া শিক্ষার্থীরা দুর্বারগতিতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে।
সাম্যরা দুই ভাই, বড় ভাই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করেছে। তার বাবা সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেক রতন, মাতা সিনিয়র শিক্ষক মোছাঃ শাহনাজ বেগম। শহরের মালতিনগর বাসায় বসবাস করেন। তার দাদার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাহপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা।
মোঃ শামসাদ মালিক সাম্য, বাংলায় ১৯৮, ইংরেজিতে ১৯৬, গনিতে ১০০, বাংলাদেশ এন্ড গ্লোবাল স্টাডিজ ৯৮, ইসলাম শিক্ষায় ৯৫, পদার্থ বিজ্ঞানে ৯৮, রসায়ন বিজ্ঞানে ১০০, জীব বিজ্ঞানে ১০০, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৪৯, উচ্চতর গণিতে ৯৯, ফিজিক্যাল, হেল্থ এন্ড স্পোর্টস ১ শত এবং কেয়ার এডুকেশনে ৫০ নম্বর পেয়েছে।
সবোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত সাম্য জানিয়েছে, দৈনিক ৮/৯ ঘন্টা পড়া-লেখার কাজে ব্যয় করেছি। এ ফলাফলে বগুড়া জিলা স্কুলের আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলীর অবদান সবচাইতে বেশি। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের নিকট সাম্যর আহবান -তোমরা বাহিরে অযথা সময় নষ্ট না করে তোমাদের বাসায় পড়ার টেবিলে বেশি বেশি করে সময় দিবে। (দৈনিক অন্তত:পক্ষে ৮ঘন্টা করে)। তাহলে সুফলাফল অর্জন করতে পারবে।
মোঃ শামসাদ মালিক সাম্য বলেন, আমি প্রথমেই স্মরন করছি মহান সৃষ্টিকর্তাকে। যাঁর অশেষ কৃপায় আমি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই জিলা স্কুলের আমার সুদক্ষ ও মেধাবী শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলীকে যাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ও দিক-নির্দেশনায় গর্বিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এই ফলাফল অর্জনের পিছনে শিক্ষকতায় পেশায় নিয়োজিত আমার বাবা মার অবদানও বিশেষভাবে দাবিদার। আমি চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়াশোনা করে একজন আদর্শবান ও মানবিক ডাক্তার হতে চায়। ডাক্তার হলে আমার প্রথম উদ্দেশ্য থাকবে রোগীর সেবা।
এদিকে বগুড়ার ঐতিহ্য বাহি আরেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ এর স্কুল শাখা থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নাফি বিন হাসান নামে এক শিক্ষার্থী ১৩ শত নম্বরের মধ্যে ১২৮২ পেয়েছে। নাফি জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সাম্যর চেয়ে এক নম্বর কম পেয়েছে। নাফি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে দ্বিতীয় এবং সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। নাফি বিন হাসান বাংলায় ১৯৭, ইংরেজিতে ১৯৮, জীব বিজ্ঞান, শারীরিক শিক্ষা ও গণিতে ১ শত করে, রসায়ন বিজ্ঞানে ও ইসলাম শিক্ষায় ৯৭ করে, বাংলাদেশ এন্ড গ্লোবাল স্টাডিজ ও উচ্চতর গণিতে ৯৯ করে, আইসিটি ও কেয়ার এডুকেশনে ৫০ করে, পদার্থ বিজ্ঞানে ৯৫ নম্বর পেয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে। নাফি বর্তমান সময় উপযোগী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট প্রকৌশলী হতে চায়।
নাফি বিন হাসান বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকার ব্যবসায়ী আবু হাসান সরকার ও ফাতেমা খাতুন রত্নার দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে ছোট।
নাফি বিন হাসান জানান, বর্তমান সরকার এদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশের রুপান্তরিত করতে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যে স্মার্ট
যুগের দ্বার প্রান্তে এসে আমিও একজন দক্ষ স্মার্ট প্রকৌশলী করতে চাই। যাতে করে দেশ এবং জাতির সেবা করতে পারি। দেশে স্মার্ট প্রকৌশলী হলে দ্রুত স্মার্ট বাংলাদেশ হবে।
নাফি বিন হাসানের মা ফাতেমা খাতুন রত্না জানান, তার সন্তান এমন সাফল্য অর্জন করায় অনেক খুশি ও আনন্দিত। এজন্য বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নাফির মনের আশা যেন পুরন হয় সেজন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।
বগুড়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠনের নেতা ও জেডবি গ্রুপের কর্নধার শাওন মাহমুদ বলেন, “বগুড়া জিলা স্কুল”এর ছোটভাই মো: সামশাদ মালিক “সাম্য” (১২৮৩ নম্বর) পেয়ে শুধু রাজশাহী বোর্ডে না,”সারা বাংলাদেশের মধ্যে “১ম” স্থান অধিকার করেছে । বগুড়া জিলা স্কুলের “১৯৯৩ ব্যাচ”এর বড়ভাইদের পক্ষ থেকে জানাই অফুরন্ত শুভেচ্ছা শুভকামনা ভালোবাসা ও দোয়া। “বগুড়া জিলা স্কুল” মানেই আমার গর্ব, আমাদের “বগুড়া জিলা স্কুলের” প্রাক্তন ছাত্রদের গর্ব, বাংলাদেশের সেরার সেরা ও অপ্রতিরোধ্য। সর্বোপরি আমাদের বগুড়া জেলা গর্ব।
জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী বগুড়া ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আসাফউদ্দৌলা ডিউক জানান, বগুড়া জিলা স্কুল প্রতিবারের ন্যায় এবারও গৌরব উজ্জ্বল ফলাফল উপহার দেয়ার স্বাক্ষর রাখলো। সেই সাথে সাম্য নামের শিক্ষার্থী সবোচ্চ নম্বর পেয়ে দেশসেরা হয়েছে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং ছাত্রদের সঠিক অধ্যবসায় আগামীতে গৌরব উজ্জ্বল ফলাফল অব্যাহত রাখবে ইনশাআল্লাহ। আমি বগুড়া জিলা স্কুলের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে গর্বিত।
বগুড়া জিলা স্কুলের জীব বিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক ও দেশসেরা ফলাফল অর্জনকারী সাম্যর বাবা মোঃ আব্দুল মালেক রতন বলেন, বগুড়া ঐতিহ্য বাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বগুড়া জিলা স্কুল। এ স্কুলের অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। সেই ফলাফলের ঐতিহ্য ধরেই মোঃ শামসাদ মালিক সাম্য সারাদেশের মধ্যে সবোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। আমার পুত্র মোঃ শামসাদ মালিক সাম্যের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।কৃতজ্ঞতা জানাই বগুড়া জিলা স্কুলের শিক্ষকমন্ডলী ও কর্মচারীবৃন্দসহ সকল শুভাকাক্ষীদের। আমার সন্তানের জন্য আপনাদের সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী যেন মহান আল্লাহ তা নেক হায়াত দান করেন; শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্যতা দান করেন এবং আদর্শ ও মানবিক মানুষ হিসাবে দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ দেন।
বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ মুহা: মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই স্কুল থেকে ২০২৪ সালে ৪৪৪ জন শিক্ষার্থী এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে। তার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৪ জন। নাফি বিন হাসান একজন মেধাবী ছাত্র। এস এস সি পরীক্ষা ২০২৪ এ অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৮২। আমি তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি এবং তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ইতিপূর্বেও বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ বগুড়ার ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। তার মধ্যে সিয়াম আলম বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলো। এ স্কুলের সাবেক ছাত্রী নুসরাত জেনি সহকারি জজ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলো
Leave a Reply