ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বগুড়ায় দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জন জীবন। রাস্তা ঘাটে যানবাহন চলাচল কম দেখা গেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেখা না গেলেও জীবন জীবীকার তাগিদে খেটে খাওয়া দিন মজুররা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে কাজে বের হয়েছে। অনেকে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। অন্যদিকে সারাদিন বিদ্যুৎ নেই, শহরের বাসাবাড়িতে পানি নেই, রাতে অন্ধকার নিমজ্জিত শহর। মোবাইলে চার্জ না থাকায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মোমবাতির চাহিদা বেড়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ঘুর্নিঝড় রেমালের প্রভাব বগুড়া জেলাতেও পড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা রাত সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টি ঝড়ছে। এতে অন্যান্য স্বাভাবিক কাজকর্মের বেঘাতের পাশাপাশি চলতি ইরি বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই চলছে। মাঠে এখনও পাকা ধান পড়ে আছে। দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান গাছ নুয়ে পড়েছে। শ্রমিক দিয়ে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে অধীর অপেক্ষায় কৃষকরা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় শ্রমিক সংকটের সাথে সাথে ধান কাটার শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে। সারা দিন আকাশ মেঘে ঢেকে থাকায় সূর্যের দেখা না মিলায় ধান ও খড় নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। শহরে বৃষ্টি কারনে রিকশা চালকরা স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারেনি, যাত্রীও ছিল কম।
এদিকে সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও বাসাবাড়িতে চরম দুর্ভােগ পোহাতে হয়। রাতে হালকা বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও সোমবার সকাল থেকে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
বগুড়া উপ শহর এলাকার বাসিন্দা এ্যাড জাহানুর রহমান জাকি জানান, সারাদিন বিদ্যুৎ নেই। সেকারণেই বাসার মোটর থেকে পানি তুলতে পারছি না। রোববার রাতে ট্যাংকিতে যে পানি ছিল তা দুপুরে শেষ হয়ে গেছে। এখন পানি ছাড়া রান্না করা যাচ্ছে না। সারাদিন শেষে রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সাথে আলোর ব্যবস্থা করাও যাচ্ছে না।
শহরের কাটনারপাড়ার বাসিন্দা ইনছান আলী শেখ জানান, শহরের মধ্যে ঝড় হয়নি, তাই বিদ্যুৎ খুটি বা তারের সমস্যা হয়েছে, সেকারণে বিদ্যুৎ নেই। সমস্যা হলেও তা সারাদিনে সমাধান করা উচিত। এখন রাত হয়ে গেছে বিদ্যুৎ কারণে অন্ধকারে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএস চার্জ হয়নি। পুরো শহরবাসী অন্ধকারে নিমজ্জিত।
দুপচাঁচিয়া উপজেলার আবুল কালাম আজাদ জানান, সোমবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। দিনের বেলায় কিছু টা আলো থাকায় চলছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় রান্নাসহ সকল কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কাহালু উপজেলার সিরাজুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের পাকা ধান জমিতে শুয়ে পড়ে গেছে। অনেক জমিতে পানি জমে গেছে।
গাবতলী উপজেলার এস এম খায়রুল ইসলাম জানান, সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। চরম দুর্ভোগ।
আদমদিঘী উপজেলার আব্দুল মানান জানান, সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে পাকা ধান পড়ে গেছে। ধানের জমিতে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। সারাদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ নেই, তাই আত্মীয় স্বজনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারছি না।
শহরের ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় বাসায় আলোর জন্য মোমবাতি জ্বালাতে হচ্ছে। সেই মোমবাতি কিনতে গিয়ে দোকানে ক্রেতাদের ভীড়। বিদ্যুৎ না থাকায় সবাই মোমবাতি কিনতে দোকানে ভীড় করছেন।
বগুড়ার নেসকো এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মোন্নাফ তার সরকারি মোবাইল নম্বরে বিকেল ৫ টা থেকে রাত সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। সেকারণে বিদ্যুৎ নিয়ে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply