বগুড়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বগুড়া জেলার উদ্যোগে প্রস্তাবিত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ঘাটতিপূর্ণ, ঋণ নির্ভর, গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান, গণমুখী বাজেট প্রণয়নের দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার সমন্বয়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম, সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য সচিব এড. দিলরুবা নূরী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সাধারণ সম্পাদক কমরেড আমিনুল ফরিদ, বাসদ জেলা নেতা সাইফুজ্জামান টুটুল, সিপিবি জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সন্তোষ পাল, বাসদ নেতা মাসুদ পারভেজ সিপিবি বগুড়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি শাহ নেওয়াজ খান পাপ্পু, বাসদের জেলা নেতা, গাবতলি উপজেলা সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ গতানুগতিক ও ঋণনির্ভর ঘাটতি বাজেট হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে গরীব মেহনতি মানুষের পক্ষে গণমুখী বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২ লক্ষ ৫৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেটে দেশি বিদেশি ঋণের উপর নির্ভর করা হয়েছে। এমনিতেই সরকার ঋণের ভারে জর্জরিত। ফলে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যই বাজেটে বিরাট অংকের ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট বাজেটের ৭ ভাগের একভাগ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ঋণ করায় এবং খেলাপী ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগে দেউলিয়া হওয়ার পথে। আর্থিক খাতের সংকট নিরসনে বাজেটে কোন দিক নির্দেশনা নাই। বেকার সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থানেরও কোন দিক নির্দেশনা বাজেটে নাই। তাছাড়া মূল্যস্ফীতি যেখানে প্রায় ১০% সেখানে বর্তমান প্রবৃদ্ধি যে ঋণাত্মক তা আড়াল করে আগামীতে প্রবৃদ্ধি ৬.৭৫% এবং মূল্যস্ফীতি ৬.৫% অর্থাৎ বাস্তবে প্রবৃদ্ধি ০.২৫% ধরা হয়েছে। তাও কীভাবে অর্জিত হবে তার কোন দিক নির্দেশনা নাই।
টাকার অবমূল্যায়, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি বিবেচনায় নিলে বাজেটে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতেও বরাদ্দ বাস্তবে বাড়েনি। টাকার অংকে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও বাস্তবে তা পেনশনভোগী ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় চলে যাবে। উপরন্তু কৃষি খাতে ২৩-২৪ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
বাজেটে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিশ্চয়তার জন্য রেশনিং এর জন্য কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি রোধে কোন কার্যকর দিক নির্দেশনা নাই। যেখানে আজিজ, বেনজির, আনার কাÐে সরকারের দুর্নীতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে সেখানে এবারেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখে দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করার ব্যবস্থা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ ধনি, লুটপাটকারীদের স্বার্থে বাজেট না করে গরীব মেহনতি মানুষের স্বার্থে বাজেট প্রণয়নের জোর দাবি জানান।
বাজেট প্রত্যাখ্যান ও গণমুখী বাজেটের দাবি দাবি জানান।
since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in
Leave a Reply