নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ঘোষিত বিএনপির দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জানে আলম খোকার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে আল্টিমেটাম দিয়েছে দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। অন্যথায় এই আসনের বিএনপির ওই প্রার্থীকে লাল কার্ড দেখানো হবে বলেও ঘোষণা দেন তাঁরা। গত ২৪নভেম্বর বিকেলে শেরপুর পৌরশহরের সকাল বাজারস্থ শহীদ গাজীউর রহমান কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যানারে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে দলটির একাধিক নেতাকর্মী ছাড়াও বহিস্কৃত নেতা জানে আলম খোকা বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভায় জানে আলম বলেন, ২০২১ সালে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি শেরপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এই নির্বাচন করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এজন্য তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সমাবেশ ডেকে প্রকাশ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাঁরা বিগত সময়ে নির্বাচন করেছেন, তাঁদের অনেকেরই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে। তাঁর বহিষ্কারাদেশ এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। তিনি তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে সময় বেঁধে দেন। আসছে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে তৃণমূল বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পথ বেছে নেবেন বলেও ঘোষণা দেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শাহ আলম পান্না। সভায় বক্তব্য রাখেন শেরপুর পৌর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন জিহাদ, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান মিলন, যুবদল নেতা আশেক মাহমুদ রোমান, আবু রায়হান, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমান মতি প্রমূখ। এসব নেতাকর্মীরাও বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারে ওই আল্টিমেটামের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বলেন, এই আসনে বিএনপি ঘোষিত দলীয় প্রার্থী আলহাজ¦ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রার্থীতা পরিবর্তনের দাবি জানান। তাঁদের দাবি, বিগত ১/১১ সরকারের সময় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এছাড়া আওয়ামীলীলীগের সতের বছরের শাসনামলে দলের কোনো কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এমনকি আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করে এবং তাদের নেতাদের সঙ্গে রকমারি ব্যবসায় লিপ্ত ছিলেন। তাই ঘোষিত সময়ের মধ্যেই বিএনপির দলীয় এমপি প্রার্থীকে পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় আসন্ন এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার মানুষ তাকে লাল কার্ড দেখাবে।
বিষয়টি সম্পর্কে বিএনপির দলীয় প্রার্থী বগুড়া-৫ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে ওই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply