বগুড়াপোস্ট ডেস্ক
কৌশলের নামে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বজনহারা পরিবারের পাশে সবসময় থাকবে বিএনপি।গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক।
এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তীমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, মিথ্যা মামলার হয়রানির পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে। আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।
তারেক রহমান বলেন, বিভীষিকাময় দিনের বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন। যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন, তাদের সত্যিকারভাবে যদি বলতে হয় আসলে আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতন ভাষা আমাদের কাছে নেই।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপোষহীন ভূমিকা রাখতে পারে সেই দলের বিরুদ্ধে সর কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের শিকার আমার সামনে বসা হাজারো প্রিয় মুখ। আপনাদের বুক ভরা কষ্ট যাতে বৃথা না যায় সেজন্য আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি আগামী দিনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখছি। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সকল শহীদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তারপরও বলতে কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচনের কমিশনের রিসেন্টলি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও রাজনৈতিক একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমত রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্নরকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমি অনুরোধ করব বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য। যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন তারা যেন সফল না হয়।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ আরো অনেকেই।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply